Powered by Blogger.

Pages

  • Home
  • About Us
  • Terms and Conditions
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • Contact

ভারত || আধ্যাত্মিক || সামাজিক || ভ্রমণ

আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও ভারতের বিভিন্ন ভ্রমণ স্থানের শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশন

  • ভ্রমণ
  • আধ্যাত্মিক
  • ভারত
  • সামাজিক

 

                            কেমন যেন সব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে আমাদের চারিপাশটা। খুব বেশি পিছনে যেতে হবে না, যাদের বর্তমান বয়স ৪০ কি ৫০, তারা যদি নিজেদের শৈশব টা একটু ফিরে দেখেন, আর আজকের শৈশব লক্ষ্য করুন দেখবেন কত ফারাক। লেখাপড়ায়, খেলাধুলায়, ভক্তি ও শ্রদ্ধায় সবকিছুতে বিস্তর পার্থক্য। একান্নবর্তী পরিবার আজ দুরবিন দিয়ে খুঁজতে হয়, তবে অবশ্যই একাকীত্ত্ব ও ছোট পরিবার আজ প্রায় সবার পছন্দ। শিক্ষক আজ ছাত্রদের শাসন করার অধিকার হারিয়েছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন অভিভাকরা। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষকদেরও অমানুষিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। শিক্ষক ও ছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক আজকাল খবরের কাগজের শিরোনাম। আমি অন্তত আমার ছাত্রজীবনে এরকম শুনিনি। অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে, আজকাল ঠিকমত হাটা যায় না, এমনিই দৃষ্টি-দূষণ পরিবেশ। আজ যারা পিতামাতা, শিক্ষক, বা বয়স্ক মানুষদের সন্মান দিচ্ছে না, তারা তাদের ভবিষ্যতে কি আর সন্মান পাবেন?

                স্বামীজি বলেছিলেন, একটু কম পড়ে, বেশি খেলাধুলা ও শরীর চর্চা করতে। সবাই জানেন বর্তমানে শতকরা হিসাবে সংখ্যাটা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। শৈশব ও কিশোর আজ মোবাইল ও ইন্টারনেট জগতে আটকে গেছে। যারফলে তাদের ইমিউন পাওয়ার অনেক কম, খুব সহজে রোগের শিকার হচ্ছে। 

                    আর ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সন্মান করার পাঠ প্রায় চুকে যাচ্ছে । এই তিনটি শব্দ কিছু সম্ভ্রান্ত পরিবারে, কিছু মঠ মিশনে অবশিষ্ট আছে। সাধারণ ঘরে, স্কুল-কলেজে আজ শুধু রাজনীতি আর ব্যাক্তিগত স্বার্থ। যেই হারে পরিবর্তন হচ্ছে, আজ থেকে ১৫-২০ বছর পর কি দেখতে হবে তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। 

                যেখানে ১৮ এর দশকে বিশ্বের লোকসংখ্যা ১০০ কোটি ছিল, আজ ২০২০-২১ সালে সেই লোকসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি, এই হারে ২০৫০-৬০ সালে, লোকসংখ্যা ১৫০০ কোটিতে পৌঁছাবে। ভবিষ্যতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বাসস্থান ও খাদ্যের ঘাটতি অনিবার্য। অরণ্য ও জন্তু জানোয়ার প্রায় নিশ্চিন্ন না হয়ে যায়।  অপরদিকে, ভারত মহাসাগরের জল সাধারণ ভাবে আগে ২৩-২৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা থাকত, সেখানে এখন প্রায় ৩১-৩২ ডিগ্রী ছুঁয়েছে।  বিশ্ব উষ্ণায়ন আরো বাড়বে, আরো ঘন ঘন টর্নেডোর উৎপত্তি হবে, তা বলা বাহুল্য। 

                        অপরদিকে কাম ও লোভের বশবর্তী হয়ে ঈশ্বরের সৃষ্টি এই সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবীটাকেও শেষ করতে আমরা পিছপা হচ্ছি না। একদিকে বিভিন্ন উপায়ে পরিবেশ দূষণ ও বনছেদন করে বিশ্ব-উষ্ণায়ন বৃদ্ধি; অন্যদিকে, শুধুমাত্র মুনাফার লোভে ধংসাত্মক অস্ত্রের পরীক্ষা ও সেগুলো অন্যদেশে বিক্রি; মানুষ হয়ে মানুষ মারার ভাইরাস আবিষ্কার।  কারণ এই ভাইরাস মারতে তারাই এন্টিডোস ও ঔষধ তৈরি এবং বিক্রি করে মুনাফা লুটবে। বাহ্ রে! উন্নত ও প্রগতিশীল মানুষ ও তাদের সমাজ।  সব জেনেও আমরা শুধুই নীরব দর্শক । পৃথিবীতে প্রথম ক্ষমতাশালী দেশ হবার কি সুন্দর প্রতিযোগিতা! দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন, সুপার সাইক্লোন, বিভিন্ন মারণ রোগের মহামারী, অতিবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, কোথাও অনাহারে মানুষ মরছে - এই সবের জন্য আমরা অন্য কাউকে দোষ দিতে পারি কি? নাকি সব কালচক্রের প্রভাব?

                তবে এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, অবশ্যই ব্যাতিক্রম আছে। পৃথিবী কোনোদিন ভালো মানুষ শূন্য হয়নি, আর হবেও না। নাহলে পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়ে যেত। 

কালচক্র

                    


                    আসলে মানুষের এই প্রকৃতির, পরিবেশের ও সমাজের উপর দুর্ব্যবহার এবং অত্যাচারের কথা শেষ হবার নয়। প্রশ্ন হলো কেন ও কিভাবে মানুষের ভিতর এতো দ্রুত পরিবর্তন আসছে? সমস্ত শুভবুদ্ধি আজ অবলুপ্তের পথে। এটাই কি তাহলে কালচক্র? আজতো ধর্ম কে নিয়ে প্রায়শই উপহাস করা হয় - মানা তো দূর। অথচ হাজার বছর আগে এই সময় কি কি ঘটবে তার লিপিবদ্ধ কি করে করা থাকে? ভাগবতে কলি ধৰ্ম কথায় সব উল্লেখ করা আছে। এই যুগে অর্থের জন্য মানুষ হেন্ কোন কাজ নেই যে না করতে পারবে। 

                কালচক্রকে এক কথায় কিছু বলা যাবে না। এমনিতেই আমি একজন সামান্য ক্ষুদ্র ব্যাক্তি, এতো গভীর অর্থ প্রকাশ হয়তো আগামী কয়েকজন্মেও করতে পারবো না।  যাই হোক, কিছু লিখতে হবে তাই লেখা। সময়ের একটি কালচক্র, জীবন-মৃত্যুর একটি কালচক্র, গ্রহ-নক্ষত্রের একটি কালচক্র প্রভৃতি নানারকম ভাবে কালচক্রকে ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে। তবে আমি এইস্থানে সময়ের কালচক্র-এর উপর দাঁড়িয়ে একটু বলার চেষ্টা করবো। এতক্ষন যা কিছু লিখেছি তা সময়ের সাথে মানুষের, পরিবেশের ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে। আগেই বলেছি আমরা সময়ের সাথে শুধুমাত্র ব্যাবসায়িক মুনাফার জন্য নিজেরাই পরিবর্তন হয়ে গেছি।  ভালো মন্দের বিচার একরকম চলে যাচ্ছে। অপরদিকে ধর্ম বলছে এই সময় যা হচ্ছে তা ভবিতব্য অর্থাৎ আগেই লিপিবদ্ধ করা আছে। আবার এও ঠিক পৃথিবীতে অধর্ম যখন বৃদ্ধি পায়, ঈশ্বরের বা তার অংশের অবতারের আগমন হয়। এটা মোটামুটি সব ধর্মেই বলা আছে। 

                যদিও বিভিন্ন গ্রহের কালচক্র, দেবলোকের কালচক্র, পৃথিবীর কালচক্র আলাদা আলাদা। ধর্মের কথায় যখন স্বয়ং ভগবান আসেন, তখন নতুন যুগের সূচনা হয়। অর্থাৎ সময়ের কালচক্র-এর পরিবর্তন হয়। কিন্তু এর কোনো সঠিক সময় থাকে না।  যেদিন ভগবান অবতীর্ন হবেন, সেদিন যুগধর্মের পরিবর্তন হয়। সূক্ষ্ম বিচারে বোঝা যায় যে, সব কিছুই যেন কারোর ইশারায় চলছে। মানুষ শুধুমাত্র উপলক্ষ্য। আমরা এইসব না মেনে, কর্মের ভিত্তিতে (অহংকার, লোভ) কর্মফল ভোগ করি। আমরা প্রায়শই ভুলে যাই সব সময়ের খেলা।  একটা প্রবাদ আছে না - সময় কথা বলে। 

অদৃশ্য ব্রহ্মান্ড


 

            সাধারন মানুষ হিসাবে, যুগের সময়কাল ও তার ব্যাখ্যা করাটা নিতান্ত ছেলেমানুষি । ছোট মস্তিস্কে এত বড় গুন যোগ এর হিসাব ধরে না । এমনিতেই নানা মুনির নানা মত । সে বিজ্ঞান গত হোক আর ধর্মীয় শাস্ত্রের ব্যাখাই হোক। একটু ব্যাখ্যা করা যাক, আমরা জানি কলি যুগ হল হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী চার যুগের অন্তিম যুগ। বাকি যুগ গুলো হলো সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর যুগ। কলি যুগের পারিমান আনুমানিক ৪,৩২,০০০ বছর, তাও এখন নাকি সবে কলির সন্ধ্যে। তাহলে কবে কলি যুগের শেষ তা কেউ জানে না । দ্বাপর যুগ, কলি যুগের দ্বিগুণ; ত্রেতা, কলি যুগের তিন গুন এবং সত্য যুগ, কলি যুগের চার গুন পরিমান । তাহলে এক চতুর্যুগ (মহাযুগ) মোট কত বছর ? 

সত্য যুগ - ১,৭২৮,০০০ বছর

ত্রেতা যুগ - ১,২৯৬,০০০ বছর

দ্বাপরযুগ - ৮৬৪,০০০ বছর

কলিযুগ - ৪৩২,০০০ বছর

       সাধু মুখে শোনা, বর্তমানে ২৭তম কলি যুগ চলছে। তার মানে ২৭টি সত্য যুগ, ২৭টি ত্রেতা যুগ, ২৭টি দ্বাপর যুগ ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে এবং এই কলি যুগের শেষে ২৮ তম সত্য যুগ এর সুচনা হবে । বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর সৃষ্টি । আবার অনেক গ্রন্থে পাই, আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ এসেছিলেন । এই হিসাবটা খানিকটা সোজা-সাপটা । বর্তমানে একবিংশ শতাব্দী, তার আগে খ্রিষ্ট পূর্ব যোগ করলে আনুমানিক একটা হিসাব বেরিয়ে আসে । কিন্তু নিশ্চিত কিছু পাওয়া যায় না। এই ৫০০০ বছর যদি কলির সন্ধ্যে হয়, তাহলে কলিযুগের আয়ু কত দাঁড়াবে? হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। তবে এটাও সত্যি, মানুষ ও বিজ্ঞানের সবকিছু বোধগম্য নয়। জ্ঞান, বিজ্ঞান, অভিজ্ঞান, ব্রহ্মজ্ঞান । বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান, বিজ্ঞানের ঘরে বসে অভিজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান জানা সম্ভব নয়। একটা সাধারন ব্যাপার, ভগবানের আবির্ভাব কালই হল যুগ সন্ধিক্ষন অর্থাৎ নতুন যুগের সূচনা। তার কোনো সময় নির্দিষ্ট থাকে না। ধর্মের উপর আঘাত এবং সাধুদের পরিত্রান করার জন্য যুগে যুগে তিনি ধরাধামে আবির্ভূত হন এবং নতুন যুগের উৎপত্তি হয় । 

কলি যুগের আচার-আচরণ 

            যদিও কলি যুগ নিয়ে এরমধ্যে অনেক ব্লগ লেখা হয়েছে, তাই খুব বেশি বিস্তারিত না বলে একটুআধটু স্মৃতিচারণ করছি। বেদব্যাস রচিত বিষ্ণু পুরাণ বলা হয়েছে যে কৃষ্ণের পৃথিবী ত্যাগ করে স্বর্গারোহণের সময় থেকে পৃথিবীতে কলি যুগের সূচনা হয়েছে। এই যুগে পুণ্য এক ভাগ, পাপ তিন ভাগ। ভগবানের অবতার কল্কি রূপে । মানুষের গড় আয়ু একশো বছর প্রায়। নিজের হাতে সাড়ে তিন হাত নিজের শরীরের আয়তন। প্রাণ অন্নগত, মন যোনিগত । তীর্থ গঙ্গা স্নান । ধর্ম সংকোচিত । মানুষ তপস্যাহীন, সত্য থেকে দূরে থাকবে । কুটিল রাজনীতি, ধনলোভী শাসক, শাস্ত্রহীন ব্রাহ্মণ-এ পরিপূর্ণ হবে । পুরুষ স্ত্রীর অনুগত, পাপে অনুরক্ত । সৎ মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি । দুষ্টের প্রভাব বৃদ্ধি । 

                'বিষ্ণু পুরাণ' অনুযায়ী ব্রহ্মদেব সত্যযুগে সমস্ত সৃষ্টিকর্ম করেন এবং কলিতে সমস্ত সৃষ্টি উপসংহার টেনে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। বিষ্ণু পুরাণ মতে কম ধনের অধিকারী হয়ে মানুষ এ যুগে বেশি অহংকার করবে। ধর্মের জন্য অর্থ খরচ করবে না এবং ধর্মগ্রন্থের প্রতি মানুষের আসক্তি থাকবে না। মাতাপিতাকে অসম্মান এবং অনাধিকার চর্চা করবে । পুত্র পিতৃহত্যা বা পিতা পুত্র হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করবে না। মানুষ বৈদিক ক্রিয়া আচার পালন করবে না। ধর্মানুসারে কেউ বিবাহিত থাকবে না। আর্থিকভাবে দুর্বল পতিকে স্ত্রীরা ত্যাগ করবে, আর ধনবান পুরুষরা সেই স্ত্রীগণের স্বামী হবে। কলিযুগে ধর্মের জন্য ব্যয় না করে কেবল গৃহাদি নির্মাণে অর্থ ব্যয় করবে। মানুষ পরকালের চিন্তা না করে কেবল অর্থ উর্পাজনের চিন্তাতেই নিরন্তর ডুবে থাকবে। কলিযুগে নারীরা সাধারনতঃ স্বেচ্ছাচারিণী ও বিলাস বস্তুতে বেশি অনুরাগিণী হবে এবং পুরুষরা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করবে। নারীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে এবং শুনতে হাস্যকর হলেও নারীদের তাড়ায় পুরুষেরা গাছে উঠবে। সুন্দরী নারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে, যা ধ্বংসের অন্যতম কারণ হবে। অসমর্থ মানুষরা ধনহীন হয়ে সর্বদা দুর্ভিক্ষ ও ক্লেশ ভোগ করবে। কলিকালে মানুষ স্নান না করে ভোজন করবে। কলিকালে স্ত্রীলোকরা খুব লোভী হবে, অনেক ভোজনশীল হবে। নারীরা দেহ পোষণে ব্যস্ত থাকবে, সর্বদা কঠোর ও মিথ্যা কথা বলবে। 

                আচারহীন ব্রাহ্মণপুত্ররা ব্রহ্মচারীর বেশ ধরে বেদ অধ্যয়ন করবে। গৃহস্থরা হোমাদি করবেন না এবং উচিত দানসামগ্রীও প্রদান করবেন না। মানুষ অশাস্ত্রীয় তপস্যা করবে। কলিকালে ৮ থেকে ১০বছরের বালকেরা সহবাসে ৫ থেকে ৭বছর বয়সের বালিকারা সন্তান প্রসব করবে। মানুষের বুদ্ধি অতি অল্প ,তাঁদের ইন্দ্রিয়-ইচ্ছা অতিশয় কুৎসিত, তাদের মন অতিশয় অপবিত্র হবে। আর অল্প কালেই বিনাশ লাভ করবে। যখন পাষন্ড লোকের প্রভাব অত্যন্ত বাড়বে, তখন সমাজের ভালো লোক কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকবে না। সজ্জনের হানি লক্ষ্য করা যাবে । অল্প বৃষ্টি হবে, কলিযুগে ফসল কম হবে। সুন্দরী স্ত্রীর যার তার সাথে বন্ধুত্ব হবে, নিজ ভাইয়ের সাথে শত্রুভাব পোষন করবে। দিন দিন মানুষ খর্বাকায় অর্থাৎ উচ্চতায় ছোট হবে, শেষে বেগুন গাছে লগা দিয়ে বেগুন পারবে। সমাজে কোনো শ্রেণীবিভাগ থাকবে না। ......... এককথায় কলির কান্ড, লন্ডভন্ড।  

কলি যুগের মাহাত্ম্য

             কল্কি অবতার কলিযুগের শেষে আর্বিভাব ঘটবে। শম্ভল নামক গ্রামে সুমতি নামে ব্রাহ্মণ কন্যার গর্ভে বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের গৃহে কল্কি নামে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতারের আর্বিভাব ঘটবে। কল্কি হবে বিষ্ণুযশা-সুমতির ৪র্থ সন্তান। বিষ্ণুযশা-সুমতির প্রথম ৩ সন্তানের নাম হবে যথাক্রমে কবি, প্রাজ্ঞ আর সুমন্তক। ভাগবতে বলা আছে ছলনা মিথ্যা আলস্য নিদ্রা হিংসা দুঃখ শোক ভয় দীনতা প্রভৃতি হবে কলিযুগের বৈশিষ্ট্য। এই কলিযুগে কৃষ্ণনাম জপ ও কালীনাম ভজনাই জীবকে উদ্ধার করতে পারে। মনু সংহিতায় বলা হয়েছে যে সত্যযুগে তপস্যা, ত্রেতায়ুগে জ্ঞান, দ্বাপরয়ুগে যজ্ঞ এবং কলিতে দান ও নাম সংকীর্তনই প্রধান । 

            কলিযুগ এত বৈচিত্রপূর্ণ ও নিম্ন হলেও, কলিযুগের মতো মহান যুগ আর হয় না। সত্যযুগে তপস্যা, ত্রেতায়ুগে জ্ঞান, দ্বাপরয়ুগে যজ্ঞ এবং কলিতে শুধুমাত্র নাম সংকীর্তনের দ্বারা (তারক ব্রহ্মনাম - হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে) জীব উদ্ধার হবে। এরই মধ্যে ভগবান বুদ্ধ ও মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব তাঁহাদের লীলা সম্পন্ন করেছেন এবং জীবনের চলার পথে তাঁদের অমূল্য নীতি, উপদেশ ও ভক্তির পথ প্রদর্শন করেছেন। মহাপ্রভু জানতেন কলির হতভাগ্য জীব ভক্তিভরে নামটুকুও নিতে পারবে না। তিঁনি স্বয়ং প্রেমের ঠাকুর হয়েও, কঠোর সন্ন্যাস ধৰ্ম পালন করেছিলেন। "সন্ন্যাসী রূপে যদি মোরে করে নমস্কার, তথাপি ঘুচিবে জীবের সকল দুঃখ যে অপার। " তাই তো তিঁনি পাতিতপাবন হরি। আসুন ভক্তিভরে একটিবার তাঁর নাম করি ........ 

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ 
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে 
হরে রাম হরে রাম 
রাম রাম হরে হরে


প্রভাস যজ্ঞ


প্রভাস যজ্ঞ


প্রভাস যজ্ঞ 


  


            যদিও খাদ্যের প্রভাব খ্রিস্টান বা মুসলিম ধর্মে খুব বেশি ফেলেনি তবে এটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হিন্দু ধর্মের সাথে যুক্ত । কিছুটা মানসিক, কিছুটা শারীরিকভাবে উপকারী এবং কিছুটা মন-গড়ন। ধর্ম কখনই রান্নাঘরের হাড়ির নির্ভর করে না। তবে এটি অনস্বীকার্য যে, আধ্যাত্মিকতার পথে খাবারের প্রভাব রয়েছে। কারণ মন যদি শান্ত ও ধীর-স্থির না থাকে, তবে কিছুই উপলব্ধি করা যায় না।
              হিন্দু ধর্ম একটি দর্শন। এটি কোনও ধর্মের সংকীর্ণ দ্বারা আবদ্ধ নয়। বহু মতবাদ হিন্দু দর্শনে সম্মানিত হয়েছে। বৈষ্ণবেরা হলেন শ্রীকৃষ্ণের বা শ্রীবিষ্ণুর উপাসক, শাক্তরা দেবী মা কালী / দুর্গার উপাসক, শৈব হলেন শিবের ভক্ত, ইত্যাদি প্রচুর মত পথ আছে। 
            বৈষ্ণব সাধুরা সাধারণত নিরামিষাশী, তারা মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, পেঁয়াজও স্পর্শ করেন না। তারা এই সমস্ত খাবারকে অপরিষ্কার বলে মনে করে। তবে, বৈষ্ণব শাখার (কালাচাঁদ বা সহজিয়া পথ) আর একটি প্রকার রয়েছে, যেখানে তারা মাছ খান। এর পিছনে একটি কারণ রয়েছে।

            শোনা যায়, কালাচাঁদ ঠাকুর ছিলেন এক পরম বৈষ্ণব। কোনও কারণে তিনি একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তিনি না চাইলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে মাছ খাওয়া শুরু করেন। তিনি তাঁর অনুগামীদের এবং ভক্তদের অনুরোধে এটি করেছিলেন। সেই মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ার কারণে স্বাত্তিক বৈষ্ণবরা এখনও সহজিয়া বৈষ্ণবকে নিকৃষ্ট চোখে দেখেন। এটির জন্য কোনও সত্য শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নেই।    

আঘোরী সাধু
        অন্যদিকে, আঘোরী সাধুগণ শ্মশানে বাস করেন, তারা মৃত মানুষের মাথার খুলিতে মৃতদের মাংস খায়, তারা সুরা পান করার পরে পূজাতে বসে। আঘোরীদের পক্ষে এই পৃথিবীতে অপরিষ্কার, খারাপ খাবার বলে কিছুই নেই।
         প্রথমত, সত্ত , রজ, তম, এই তিনটি গুণাবলী স্পষ্টভাবে বোঝা উচিত।

১) সৎ চিন্তা, সৎ কাজ, সৎ সঙ্গ, মিষ্টি ভাষা, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, নিয়মিত উপাসনা, ধর্মগ্রন্থ পাঠ, মন্দির দর্শন - মনের স্বাত্তিক অনুভূতি বাড়ায়।

২) অন্যদিকে, লোভ, লালসা, স্বার্থের সিদ্ধি - চিন্তাভাবনা রজ গুণাবলীর বৃদ্ধি করে।

৩) অসৎ সঙ্গ, চুরি, ডাকাতি, অন্যের ক্ষতি করার চিন্তাভাবনা, মদ্য পান করা - ইত্যাদি মনের মধ্যে তামসিকের অনুভূতি বাড়ায়।

শ্রীমাদ-ভাগবত গীতের ১৪ তম অধ্যায়ে স্বত্ত, রজ ও তম গুনের কথাও বলা হয়েছে।

স্বাত্তিক খাদ্য

  • স্বাত্তিক  - এটি মূলত নিরামিষ খাবার, কারণ এটি কোনও ধরণের মাছের বা মাংসের উল্লেখ করে না। ফল, দুধ, শাকসবজি লক্ষণীয়। মশলা বা তেল প্রয়োগ খুব বিরল।
  • স্বাত্তিক (স্বত্ত গুন) খাবার - গরুর দুধ, ঘি, মাখন, ফল, শুকনো ফল যেমন আখরোট বাদাম এবং সহজেই হজম হয় এমন সমস্ত খাবার। এই জাতীয় খাবার মনকে শান্ত এবং ধীর-স্থির করে তোলে (স্বাত্তিক অনুভূতি)। সততার সাথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা খাবার মনকে স্বাত্তিক করে তোলে।
  • রাজসিক - এটিতে মাছ, মাংস, ফলমূল এবং শিকড়ের উল্লেখ রয়েছে তবে তেল এবং মশলার পরিমাণ বেশি ।  রাজসিক (রজ গুণ) খাবার- অতিরিক্ত মশলাদার, খুব নোনতা, খুব তিক্ত, অতিরিক্ত গরম, অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার, পেঁয়াজ, রসুন মনকে মজাদার করে তোলে।
  • তামসিক - এই খাবারগুলিতে উচ্চ মাত্রার তৈলাক্ত খাবার, শুকনো মাংস, অ্যালকোহল, মাদক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তামসিক (তম গুন) খাদ্য- অপরিষ্কার, বাসি, আঠালো খাবার, খুব শুকনো, পচা খাবার মনকে তামসিক ভাবের অনুভব করে। অসাধুভাবে (চুরি / ঘুষ / জালিয়াতির মাধ্যমে) উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা খাবার মনকে তামসিক করে তোলে। 
            বিভিন্ন লোক, বিভিন্ন মতামত। কোনও বিতর্কে যাওয়ার দরকার নেই। যে কেউ নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। যদি চোরের হাতের রান্না করা খাবার ৮-১০ দিনের জন্য খান তবে চোরের ভাব তার ভিতর প্রবেশ করবে। 


        ধর্মগ্রন্থ পড়লেও কিছুই হবে না। হাজার বছর আগে রচিত কত পুরনো, কত নতুন সংস্করণ/সংযোজন যুক্ত হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। কিছু মূল পাঠ্য নষ্ট হয়েছে, অনেক নতুন যুক্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র ভগবদ গীতা, যার শ্লোকগুলি পরিবর্তিত হয়নি, তবে বিভিন্ন ভক্ত, বিভিন্ন উপায়ে বর্ণনা করেছেন।

আমার চোখে 

             যদিও আমি এটি আমার চোখে বলেছি, তবে আমি এমন কিছু ভক্তের কাছ থেকে সমস্ত কিছু জানতে পেরেছিলাম, যারা এখন এই পৃথিবীতে নেই। এমন নয় যে তাদের খুব দক্ষতা ছিল। তবে, আমি তাদের ভক্তির অনুভূতিগুলি দেখেছি। তারা উদারভাবে কথা বলত।

            তেল ছাড়া প্রদীপ যেমন জ্বলে না তেমনি মানুষের জীবনের তেলও তার বীর্য। যতক্ষণ এটি পূর্ণ থাকে, আমাদের যে কোনও যুদ্ধে জয়লাভ করার শক্তি থাকে, যে মুহুর্তে এটি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, সেই মুহুর্তে আমাদের চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে এবং প্রতিদিন শুকনো দেহ, শরীর ধীরে ধীরে মারা যায়, বিভিন্ন রোগের আবাস গ্রহণ করে, এছাড়াও অনাক্রম্যতা হ্রাস পায়। 

            ধর্মের উপর খাদ্যের প্রভাব, যতক্ষণ সেই বীর্যতে কোনও ক্ষতি হয় না। কারণ বীর্যতে আঘাতের অর্থ শরীরে আঘাত, মনের আঘাত, আধ্যাত্মিকতার পথে বাধা।

            পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদির খাবারগুলি দেহে উত্তাপ দেয় এবং উত্তেজনা এনে দেয়। যা থেকে আকাঙ্ক্ষার উদ্ভব হয়। পেঁয়াজ যদিও শরীরকে শীতল রাখে তবে বীর্যকে পাতলা করে। সে কারণেই এ জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়। এতে কোনও ধর্মীয় বিষয় নেই। কোন ধর্মীয় গ্রন্থে কী খাওয়া যায় তারও সঠিক উল্লেখ নেই।

Older Posts

Blog Archive

  • May 2021 (1)
  • April 2021 (2)
  • March 2021 (2)
  • February 2021 (8)
  • January 2021 (13)
  • December 2020 (2)
  • November 2020 (3)
  • October 2020 (2)

LET’S BE FRIENDS

Labels

  • আধ্যাত্মিক
  • ভ্রমণ
  • সামাজিক

Contact Form

Name

Email *

Message *

About Me

My photo
K. C.
Who doesn't want to know the unknown and to see the unseen? Writing this blog with that inquisitive mind. It is a kind of mental journey or tour, along with gaining some knowledge. Many believe that death is the only truth, and the rest of all is just an illusion. Already I have written a topic in this regard. However, to me, like death, life & this world are also true. So I have had a desire to understand it for a long time. It may be to know through the spiritual way, to realize it through travel, to benefit this world with some social knowledge, which is just trying to explain in detail in this blog. I will consider myself blessed if anyone benefited from reading this blog. (www.kallol34.com)
View my complete profile
Created By SoraTemplates | Distributed by GooyaabiTemplates