মৌসুনি দ্বীপ, বালিয়ারা

by - April 06, 2021

                    মৌসুনি দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মুড়িগঙ্গার মোহনায় অবস্থিত। বিগত কয়েক বছর ধরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। লম্বা দ্বীপটিকে (প্রায় ১৬ কিমি) মূল ভুখন্ড থেকে চিনাই নদী আলাদা করে রেখেছে। মাছধরা ও কৃষিকাজই দ্বীপের বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা। এই দ্বীপের প্রায় সব বাড়ি মাটির এবং দ্বীপটি থেকে কিছুটা দূরে জম্বুদ্বীপ ও সাগরদ্বীপ দেখা যায়। মৌসুনি দ্বীপ, বালিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। তবে এই দ্বীপটিতে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার দরুন স্থানীয় গ্রামবাসী অনেক উপকৃত হয়েছেন। 

                    এখানে দীঘা বা পুরীর মতো সেইরকম ঢেউ নেই, দোকানপাট, মন্দির, মেলা, ভিড় বা সমুদ্রের গর্জনও নেই । কিন্তু আছে সমুদ্রের শান্ত পরিবেশ, ঝাউ ও ম্যানগ্রোভের সবুজ প্রকৃতি, নির্জন বালিতে ঘুরে বেড়ানো, অবশ্যই সঙ্গে লাল কাঁকড়ার দল । কোনরকম বিরক্তিকর পরিবেশ নেই, যতক্ষন খুশি শান্ত সমুদ্রের ঢেউ দেখুন বা স্নান করুন । তবে সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশের মায়াবী রঙিন ছটা, আর সমুদ্রের জলের উপর তার প্রতিফলন, জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে চিরকাল রয়ে যাবে ।

                        এই দ্বীপে থাকার জন্য কোন হোটেলের ব্যবস্থা নেই । ইকোট্যুরিজম-এর কথা মাথায় রেখে ঝাউবনে গড়ে উঠেছে অনেক টেন্ট ও মাড হাউস । কারেন্ট থাকলেও টর্চ ও মশার ধুপ আবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে । খাবার বেশ ভালো মানের । নানারকম আইটেম । ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস, ভাত, ডাল, ভাজা, চা, পকোড়া, চিকেন, মাছ, রাতে বনফায়ার সবই উপলব্ধ । 

                    আরেকটি ব্যাপার না বললেই নয়, রাতে টর্চের আলোয় সমুদ্র বিচে নাইট ওয়াক এক দারুন অভিজ্ঞতা । রাতের খাবার সেরে ঢেউয়ের শব্দে ঘুমানো আর সকালে পাখির গানে ঘুম ভাঙা – সে এক অন্যরকম উপভোগ্য ঘটনা ।

                সকালে সূর্যোদয় দেখে নিকটবর্তী জম্বুদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন। মোটামুটি দেড়ঘন্টা মতো সময়লাগে লাগে, ভাড়া জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা । সেখানে নানা প্রজাতির পাখি ও ম্যানগ্রোভ জঙ্গল আছে। ভাগ্য ভালো থাকলে হরিনের দেখা মিলতে পারে। তবে জম্বুদ্বীপে নামার অনুমতি নেই এবং সেখানে কোনো বসতি নেই। 


কিভাবে যাবেন

            ট্রেনে শিয়ালদহ থেকে নামখানা, তারপর টোটোতে করে পাতিবনিয়া ঘাট। বাসে আসলে কলকাতা থেকে বকখালিগামী বাসে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া ব্রিজ পার করে দশমাইল স্টপেজ। সেখান থেকে টোটোতে করে পাতিবনিয়া ঘাট । এখান থেকে খেয়া পার করে ওপারে মৌসুনি দ্বীপ যেতে হবে ।

থাকার খরচ 

এডভেঞ্চার টেন্ট                         : দৈনিক মাথাপিছু খরচ ১০০০-১২০০ টাকা। 
ভিলা কটেজ ও ফ্যামিলি টেন্ট    : দৈনিক মাথাপিছু খরচ ১৪০০-১৫০০ টাকা। 
এ.সি কটেজ                                : দৈনিক মাথাপিছু খরচ ১৬০০-১৭০০ টাকা। 
নন-এ.সি. কটেজ                        : দৈনিক মাথাপিছু খরচ ১৪০০ টাকা। 

You May Also Like

0 comments